

Md Mehedi Hasan

অনেক অভিভাবকেরই এমন একটি অভিজ্ঞতা আছে, যা প্রথমে একটু অবাক করে।
আপনি হয়তো সন্তানের সঙ্গে English story book পড়ছেন। সে ছবিগুলো দেখে অনেক শব্দ চিনতে পারছে। Cartoon দেখার সময় চরিত্রগুলো কী বলছে, সেটাও মোটামুটি বুঝে ফেলছে। স্কুলের পরীক্ষায় English-এ ভালো নম্বরও পাচ্ছে।
কিন্তু হঠাৎ যদি বলেন, "একটু English-এ বলো তো, আজ স্কুলে কী করলে?"
তখন সে চুপ হয়ে যায়।
কিংবা খুব ছোট করে এক-দুটি শব্দ বলে থেমে যায়।
এমন পরিস্থিতিতে অনেক অভিভাবক ভাবেন, "তাহলে কি আমার সন্তান আসলে English শিখছে না?"
বাস্তবতা হলো, English বোঝা (Understanding) এবং English-এ কথা বলা (Speaking) এক বিষয় নয়।
একটি শিশু অনেক শব্দ জানলেও, নিজের ভাবনা আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে প্রকাশ করতে সময় লাগতে পারে। এটি কোনো দুর্বলতা নয়, বরং ভাষা শেখার একটি স্বাভাবিক ধাপ।
এই কারণেই বিশ্বের আধুনিক English learning program-গুলো এখন শুধু grammar বা vocabulary নয়, communication skill এবং speaking confidence তৈরির ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।
এই ব্লগে আমরা জানব:

অনেকেই মনে করেন, একটি শিশু যদি English বই পড়তে পারে বা অনেক vocabulary জানে, তাহলে সে সহজেই English-এ কথা বলতে পারবে।
কিন্তু বাস্তবে ভাষা শেখার প্রক্রিয়া এর চেয়ে অনেক বেশি বিস্তৃত।
একটি শিশু সাধারণত চারটি ধাপের মধ্য দিয়ে ভাষা শেখে।
১. Listening
২. Understanding
৩. Speaking
৪. Writing
অর্থাৎ, প্রথমে সে শোনে।
তারপর সেই ভাষা বুঝতে শেখে।
এরপর ধীরে ধীরে নিজের ভাষায় প্রকাশ করতে শুরু করে।
সবশেষে আসে লেখার দক্ষতা।
এই কারণেই অনেক শিশু English story বুঝতে পারে, কিন্তু নিজের অভিজ্ঞতা English-এ বলতে গেলে থেমে যায়।
এটি শেখার স্বাভাবিক অংশ।
ভাষাবিজ্ঞানীরা একে অনেক সময় Passive Language এবং Active Language-এর পার্থক্য হিসেবে ব্যাখ্যা করেন।
Passive Language বলতে বোঝায়, শিশু ভাষা বুঝতে পারে।
Active Language হলো, সেই ভাষা ব্যবহার করে নিজের ভাব প্রকাশ করতে পারা।
যতক্ষণ পর্যন্ত Active Practice না হয়, ততক্ষণ Speaking Confidence পুরোপুরি তৈরি হয় না।
শিশুর English শেখার অগ্রগতি তাই শুধু সে কতগুলো শব্দ জানে, তা দিয়ে বিচার করা ঠিক নয়। বরং সে সেই শব্দগুলো বাস্তব কথোপকথনে ব্যবহার করতে পারছে কি না, সেটিই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
ধরুন, একটি শিশু সাইকেল সম্পর্কে সব জানে।
সে জানে সাইকেলের ব্রেক কোথায়।
প্যাডেল কীভাবে ঘোরে।
হ্যান্ডেল কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে হয়।
কিন্তু সে যদি কখনও সাইকেলে না ওঠে, তাহলে কি সে চালাতে পারবে?
সম্ভবত না।
English Speaking-ও ঠিক একই রকম একটি Skill।
এটি শুধু জ্ঞান নয়।
এটি একটি অভ্যাস।
যত বেশি ব্যবহার করা হবে, তত বেশি স্বাভাবিক হবে।
গবেষণায় দেখা গেছে, শিশুরা যখন নিরাপদ ও উৎসাহব্যঞ্জক পরিবেশে নিয়মিত কথা বলার সুযোগ পায়, তখন তাদের communication skill আরও দ্রুত উন্নত হয়।
British Council LearnEnglish Kids-এর বিভিন্ন learning resource-এ Storytelling, Conversation এবং Interactive Activities-এর গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে। এসব কার্যক্রম শিশুদের ভাষা ব্যবহার করার আত্মবিশ্বাস তৈরি করতে সাহায্য করে।
Source:
https://learnenglishkids.britishcouncil.org/
অন্যদিকে, শুধুমাত্র বই পড়ে বা শব্দ মুখস্থ করে সেই আত্মবিশ্বাস তৈরি হয় না।
কারণ ভাষা শেখার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো ব্যবহার।
একটি শিশু যত বেশি বাস্তব জীবনে English ব্যবহার করবে, তত বেশি তার মধ্যে Speaking Confidence তৈরি হবে।

যদি একটি শিশু English বুঝতে পারে, তাহলে সে কথা বলতে ভয় পায় কেন?
এর পেছনে সাধারণত কয়েকটি কারণ কাজ করে।
এটি সবচেয়ে বড় কারণগুলোর একটি।
শিশুর মনে হতে পারে:
আমি যদি ভুল বলি?
সবাই যদি হাসে?
Teacher যদি বকা দেন?
এই ভয় অনেক সময় শিশুকে চেষ্টা করতেও নিরুৎসাহিত করে।
কিন্তু ভাষা শেখার ক্ষেত্রে ভুল কোনো ব্যর্থতা নয়।
ভুলই শেখার একটি স্বাভাবিক অংশ।
American Academy of Pediatrics-এর প্রকাশিত Parent Resource-এ ইতিবাচক উৎসাহ এবং নিরাপদ শেখার পরিবেশের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে। এমন পরিবেশ শিশুর আত্মবিশ্বাস গড়ে তুলতে সাহায্য করে।
Source:
https://www.healthychildren.org/
অনেক শিশুর কাছে English মানেই:
ফলে ভাষাটি যোগাযোগের মাধ্যম না হয়ে একটি Academic Subject হয়ে দাঁড়ায়।
কিন্তু একটি ভাষার মূল উদ্দেশ্য হলো মানুষে মানুষে যোগাযোগ করা।
যখন শিশুর শেখার অভিজ্ঞতা শুধুই পরীক্ষাকেন্দ্রিক হয়, তখন সে বাস্তবে ভাষাটি ব্যবহার করার সুযোগ কম পায়।
ফলে পরীক্ষায় ভালো ফল করলেও, বাস্তব জীবনে English-এ কথা বলার আত্মবিশ্বাস তৈরি হয় না।
একটি শিশু যদি প্রতিদিন English পড়ে, কিন্তু কখনও English-এ কথা বলার সুযোগ না পায়, তাহলে তার Speaking Skill তৈরি হতে সময় লাগবে।
ভাষা শেখার জন্য Exposure অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
যেমন:
এই ধরনের বাস্তব অভিজ্ঞতাই শিশুকে ধীরে ধীরে আত্মবিশ্বাসী করে তোলে।
শিশু যত বেশি শুনবে, তত বেশি বুঝবে।
যত বেশি বুঝবে, তত বেশি বলতে চাইবে।
আর যত বেশি বলবে, তত বেশি আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠবে।
এই ধারাবাহিক অনুশীলনই একজন শিশুকে ধীরে ধীরে একজন আত্মবিশ্বাসী English Communicator হিসেবে গড়ে তোলে।

একটি শিশু English-এ কথা বলতে পারছে না মানেই সে শিখছে না, এমনটি নয়।
অনেক সময় তার প্রয়োজন হয় শুধু সঠিক পরিবেশ, নিয়মিত অনুশীলন এবং ভুল করার স্বাধীনতা।
অভিভাবক হিসেবে ছোট ছোট কিছু পরিবর্তনই শিশুর Speaking Confidence গড়ে তুলতে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।
প্রতিদিন ১০–১৫ মিনিটের ছোট একটি Conversation Session শিশুর ভাষা শেখার জন্য অনেক কার্যকর হতে পারে।
এটি কোনো ক্লাস নয়। বরং স্বাভাবিক কথোপকথন।
যেমন:
শিশুর উত্তর ছোট হলেও তাকে থামাবেন না। বরং আগ্রহ নিয়ে শুনুন।
যখন শিশু বুঝতে পারে, তার কথা মনোযোগ দিয়ে শোনা হচ্ছে, তখন সে আরও বেশি কথা বলতে আগ্রহী হয়।
শিশুরা গল্প ভালোবাসে।
আর গল্পের মাধ্যমে শেখা অনেক বেশি স্বাভাবিক ও আনন্দদায়ক।
একটি Story শোনার পর শিশুকে জিজ্ঞেস করতে পারেন:
এভাবে গল্প নিয়ে আলোচনা করলে Vocabulary, Listening, Thinking এবং Speaking -এই চারটি দক্ষতাই একসঙ্গে বিকশিত হয়।
অনেক অভিভাবক সন্তানের ভুল সঙ্গে সঙ্গে শুধরে দিতে চান।
উদ্দেশ্য ভালো হলেও, এর প্রভাব সব সময় ইতিবাচক হয় না।
ধরুন, শিশু বলল:
"He go to school every day."
এ সময় সরাসরি "ভুল" বলার পরিবর্তে আপনি বলতে পারেন:
"Yes, he goes to school every day."
এতে শিশু সঠিক বাক্যটি শুনবে, আবার কথা বলার আগ্রহও হারাবে না।
Language Learning-এ এটিকে অনেক সময় Positive Correction বলা হয়।
English শেখা শুধু বইয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে শিশু দ্রুত আগ্রহ হারাতে পারে।
বরং দৈনন্দিন জীবনের ছোট ছোট মুহূর্তে English ব্যবহার করুন।
যেমন:
খাওয়ার সময়:
"Would you like some water?"
খেলার সময়:
"Let's count together."
ঘুমানোর আগে:
"Good night. See you tomorrow."
এই ধরনের ছোট ছোট Conversation শিশুর কাছে ভাষাটিকে স্বাভাবিক করে তোলে।
সব English Class এক রকম নয়।
কোথাও শিশু শুধু শিক্ষককে শোনে।
আবার কোথাও শিশু নিজেও প্রশ্ন করে, উত্তর দেয়, গল্প বলে এবং বন্ধুদের সঙ্গে কথা বলে।
Language শেখার জন্য দ্বিতীয় ধরনের পরিবেশই বেশি কার্যকর।
কারণ ভাষা শেখা মানেই ব্যবহার করা।
যত বেশি Practice, তত বেশি Confidence।
শিশুকে English শেখাতে গিয়ে অনেক সময় আমরা অজান্তেই কিছু ভুল করি।
Grammar গুরুত্বপূর্ণ।
কিন্তু একটি শিশু যদি কথা বলতেই ভয় পায়, তাহলে Grammar জানলেও Communication Skill তৈরি হবে না।
প্রতিটি বাক্যের ভুল সঙ্গে সঙ্গে ধরিয়ে দিলে অনেক শিশু কথা বলা কমিয়ে দেয়।
প্রথমে তাকে বলতে দিন।
তারপর ধীরে ধীরে সঠিক ব্যবহার শেখান।
"ও তো অনেক ভালো English বলে।"
এই ধরনের তুলনা শিশুর আত্মবিশ্বাস কমিয়ে দিতে পারে।
প্রতিটি শিশুর শেখার গতি আলাদা।
তুলনা নয়, নিজের অগ্রগতি দেখাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
ভালো নম্বর পাওয়া অবশ্যই আনন্দের।
কিন্তু একটি ভাষার আসল উদ্দেশ্য হলো যোগাযোগ করা।
তাই পরীক্ষার পাশাপাশি Communication Skill-ও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
Language শেখা শুধুমাত্র Reading বা Writing-এর মাধ্যমে সম্পূর্ণ হয় না।
নিয়মিত Speaking Practice ছাড়া Fluency তৈরি করা কঠিন।
এই প্রশ্নটি প্রায় সব অভিভাবকই করেন।
এর উত্তর হলো:
দুটিই গুরুত্বপূর্ণ।
তবে শেখানোর ক্রমটি গুরুত্বপূর্ণ।
একটি শিশু যেমন প্রথমে নিজের মাতৃভাষায় কথা বলতে শেখে, পরে ভাষার নিয়ম শেখে, তেমনি English Learning-এও প্রথমে Listening, Understanding এবং Speaking-এর ভিত্তি তৈরি করা বেশি কার্যকর।
এরপর ধীরে ধীরে Grammar যুক্ত হলে শেখা আরও অর্থবহ হয়।
এ কারণেই বিশ্বের অনেক Child English Learning Program Communication-first Approach অনুসরণ করে।
যদি আপনি সন্তানের জন্য একটি English Learning Program নির্বাচন করতে চান, তাহলে কয়েকটি বিষয় অবশ্যই খেয়াল করুন।
শিশুর কি নিয়মিত Speaking Practice করার সুযোগ আছে?
Class কি Interactive?
শিক্ষক কি শিশুদের বয়স অনুযায়ী শেখানোর অভিজ্ঞতা রাখেন?
শেখার পরিবেশ কি আনন্দদায়ক?
শিশুর অগ্রগতি কি নিয়মিত মূল্যায়ন করা হয়?
এই প্রশ্নগুলোর উত্তর যদি "হ্যাঁ" হয়, তাহলে সেটি শিশুর জন্য একটি কার্যকর Learning Environment হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।
শিশুর English শেখা শুধু নতুন শব্দ শেখা নয়।
এটি নিজের কথা আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে প্রকাশ করার একটি দক্ষতা।
এই বিষয়টি মাথায় রেখেই Mojaru Smart English for Kids তৈরি করা হয়েছে।
এখানে শিশুরা শুধু Grammar বা Vocabulary শেখে না।
তারা অংশ নেয় Interactive Class-এ, Speaking Activity-তে এবং Practical Conversation Practice-এ।
শেখার প্রতিটি ধাপ এমনভাবে সাজানো হয়েছে, যাতে শিশু ধীরে ধীরে নিজের ভাবনা English-এ প্রকাশ করার আত্মবিশ্বাস গড়ে তুলতে পারে।
কারণ একটি ভাষা তখনই শেখা হয়, যখন সেটি ব্যবহার করা যায়।
হ্যাঁ। অনেক শিশুই প্রথমে ভাষা বুঝতে শেখে, পরে কথা বলতে শুরু করে। নিয়মিত Conversation Practice এবং উৎসাহ পেলে ধীরে ধীরে Speaking Confidence তৈরি হয়।
দীর্ঘ সময় পড়ানোর প্রয়োজন নেই। প্রতিদিন ১০–১৫ মিনিটের আনন্দদায়ক Conversation, Storytelling বা Speaking Activity অনেক বেশি কার্যকর হতে পারে।
সব সময় নয়। প্রথমে শিশুর কথা মনোযোগ দিয়ে শুনুন। এরপর ইতিবাচকভাবে সঠিক বাক্যটি বলুন। এতে শিশুর আত্মবিশ্বাস অক্ষুণ্ন থাকে।
Cartoon Listening Skill উন্নত করতে সাহায্য করে। তবে Speaking Skill গড়ে তুলতে বাস্তব কথোপকথন এবং নিয়মিত অনুশীলন প্রয়োজন।
যদি Class Interactive হয়, Speaking Practice-এর সুযোগ থাকে এবং শিক্ষক নিয়মিত Feedback দেন, তাহলে Online Class-ও কার্যকর হতে পারে।
শিশুর English শেখার যাত্রা শুরু হয় কথা বলার সাহস থেকে।
সে প্রথম দিনই নিখুঁতভাবে কথা বলবে না।
ভুল করবে।
থামবে।
আবার চেষ্টা করবে।
এই ছোট ছোট চেষ্টাগুলোই একসময় আত্মবিশ্বাসে রূপ নেয়।
অভিভাবক হিসেবে আমাদের কাজ শিশুকে প্রতিটি উত্তরের জন্য প্রস্তুত করা নয়, বরং এমন একটি পরিবেশ তৈরি করা, যেখানে সে নির্ভয়ে প্রশ্ন করতে পারে, ভুল করতে পারে এবং নিজের ভাষায় কথা বলতে পারে।
কারণ একটি আত্মবিশ্বাসী শিশু শুধু ভালো English-ই শেখে না, ভবিষ্যতে আরও আত্মবিশ্বাসী একজন মানুষ হিসেবেও গড়ে ওঠে।
যদি সন্তানের English শেখার সঠিক পদ্ধতি নিয়ে আরও জানতে চান, তাহলে একজন অভিজ্ঞ Learning Expert-এর সঙ্গে কথা বললে বিষয়টি আরও পরিষ্কারভাবে বুঝতে পারবেন।